ছপক

সুদীপ ঘোষ 'ছপক' ছবিটা দেখার পর আপনার মনে হবে, কেন মেয়েদের ওপরই অ্যাসিড আক্রমণ হয়? কেন কোনও অ্যাসিড ভিক্টিম ছেলে হয় না? এর কারণ লুকিয়ে আছে ভারতীয় সমাজে, যা ভয়ঙ্কর রকমের পুরুষতান্ত্রিক। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ভীষণ ভাবে চায় একটি মেয়েকে দমিয়ে রাখতে। তাই যে মেয়ে তার পরিবারের নাম 'রোশন' করতে চায়, তার বাবা-মায়ের গর্ব হতে চায়, তাকে যেন তেন ভাবে সমাজে তার অবস্থান বোঝানোর আর একটি পুরুষতান্ত্রিক উপায় হল অ্যাসিড আক্রমণ। কিন্তু যে মেয়ে এমন ভয়ঙ্কর আক্রমণ সত্ত্বেও দাঁত কামড়ে পড়ে থাকে, আক্রমণকারীর বদলে আক্রমণের কারণটাকে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলার জন্য, সে মেয়ের বিরুদ্ধে সেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কীভাবে লড়বে? উত্তর: লড়তে পারবে না, হেরে যাবে, কিন্তু এক অনাহুত বিকর্ষণে সে সমানে এড়িয়ে যাবে উচ্চতম ন্যায়ালয়ের আদেশও। লক্ষ্মী আগরওয়ালের (ছবিতে মালতী, অভিনয় করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন) মামলার রায়ের পরও তাই আজও যে কোনও দোকানে সহজে অ্যাসিড কিনতে পাওয়া যায়। মেঘনা গুলজারের 'রাজি'র মতো আঙ্গুলের নখ কামড়ানো স্পাই-ড্রামার থ্রিল নেই এ ছবিতে। নেই 'তালোয়ার'-এর রুদ্ধশ্বাস রহস্যের খোলা ছাড়ানো কোর্টরুম ড্রামা। 'ছপক'-এর মধ্যে আছে এক অবাধ গতি, যা অন্ধকার থেকে আলোয় পৌঁছনোর কথা বলে। উত্তরণের কথা বলে। মেঘনার এই যে অধুনা তিন রকমের ড্রামায় তিন রকমের চলন, সেটা প্রশংসাযোগ্য। যে ছবির যা চাহিদা, সেই চাহিদা মেনে পরিচালক হিসেবে তাঁর ট্রিটমেন্ট হাততালির দাবি রাখে। দেখার মতো হচ্ছে দীপিকা পড়ুকোনের মেক-আপ ও অভিনয়। সত্যি বলতে পুরো ছবি ধরেই দীপিকা। এবং তিনিই মেঘনার ট্রাম্পকার্ড এই ছবিতে। এই ছবির জন্য দীপিকার লুক অনেক আগেই মেঘনারা প্রকাশ করেছিলেন। রনবীর সিংহের স্ত্রীকে এমন অবতারে দেখা সত্যিই চোখকে ধাক্কা দেয়। আর দেয় বলেই এই ছবিটি সম্পূর্ণভাবে দীপিকার। কারণ কেরিয়ারের এই অধ্যায়ে দীপিকা যে এই দানটি খেলতে রাজি হলেন, তা দারুণ। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রযোজনা সংস্থা সেই ছবিটি প্রযোজনাও করল, এটা সত্যি সাহসের। আসলে ছবিটি কোনও ভাবেই শিকার বা শিকারি কাউকেই গ্ল্যামারাইজ করে না। এটাই এ ছবির সবচেয়ে বড় ভিত্তি। এই যে কাউকেই গুরুত্ব না দিয়ে লড়াইটাকে গুরুত্ব দেওয়া, এটাই ছবিকে একটা অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। ওই যে বলছিলাম না, এ ছবির একটি অবাধ গতি আছে। যে গতির মধ্যে দিয়ে মালতীর অ্যাসিড আক্রমণ থেকে সেরে ওঠা, এবং তারপর ধীরে ধীরে তার মুখ থেকে ঘোমটা সরিয়ে নেওয়ার সাহস সঞ্চয় করা, লড়াইটা জেতা, এটা এত শান্তভাবে ছড়িয়ে আছে পুরো ছবিতে, যে তা হাততালির দাবি রাখে। আর ঠিক এখানেই আলোচনায় চলে আসেন বিক্রান্ত ম্যাসে। তিনি যদি ছবিতে দোর্দন্ডপ্রতাপ কেউ হতেন, তা হলে ছবিটা সত্যির থেকে অনেক দূরে সরে যেত। কারণ তিনি হচ্ছেন পরিত্রাতা। সেটা যে হয়নি, তার জন্যও প্রশংসা প্রাপ্য চিত্রনাট্যকার অতিকা চৌহান এবং মেঘনা গুলজারের। এবং বিক্রান্তের, কারণ তিনি ঠিক সেই চাপা অভিনয়টাই করে গিয়েছেন। তা বলে কি ছবির সবটাই ভালো? না তা নয়। মধ্যিখানে ছবির চিত্রনাট্য কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। শঙ্কর-এহসান-লয়ের সুরও মাঝেমধ্যেই কানকে খোঁচা দেয়। অরিজিৎ সিংয়ের গানগুলোয় যেন ছবির মাঝে মাঝে লাফিয়ে উঠে বোঝাতে চায় যে সে সব এক জবরদস্ত গায়কের গাওয়া। এ গুলি ছবিটিকে খানিকটা হলেও ধাক্কা দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে থেকে যায় দীপিকার অভিনয় আর মেঘনার 'ব্যাল্যান্স'। সেটাই এই ছবির বড় পাওনা।


from Movie Review in Bengali, চলচ্চিত্র পরিদর্শন, Bangla Movie Review, Bollywood Film Rating https://ift.tt/3a0QaY3
ছপক ছপক Reviewed by SGMoviesHD on January 11, 2020 Rating: 5

No comments:

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.