লক্ষ্যভেদ করল অন্দরমহলের আগুন শতরূপা বসু নয়ের দশকের উত্তর প্রদেশের জোহরি গ্রাম। ঠিক কেমন সেই গ্রামের সাধারণ বাড়ির পরিবেশ? পুরুষরাই সেখানে শেষ কথা। বাড়ির মহিলাদের ঘোমটায় মুখ ঢাকা। তারা ঘুঁটে দেয়, রান্না করে, খেতখামারি করে আর প্রত্যেক বছর বাচ্চা দেয়। তাদের চেনা যায় তাদের ঘোমটার রং দিয়ে। সেটাই তাদের একমাত্র পরিচয়। এরকম বাড়ির চিত্র গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতেও। সেই বাড়ি-ই এ ছবির পটভূমিকা। এ হেন বাড়িতে থাকেন দুই জা - চন্দ্র তোমর আর প্রকাশী তোমর। তাঁরা বাড়ির রীতিনীতি মেনেই কাজ করেন, মুখে রা কাড়েন না। কিন্তু ভিতরে ভিতরে বয়ে বেড়ান চাপা আগুন। কিন্তু কখন যে স্বাধীন-সত্তা এসে কড়া নাড়বে এবং কোন রূপে তা কী কেউ জানে? দুই জায়ের প্রায় ৬০ বছর বয়সে জীবনে আসে সেই ঢেউ। গ্রামের ডাক্তার-কাম-শুটিং কোচ যশপালের সাহায্যে চন্দ্র আর প্রকাশী আবিষ্কার করেন যে তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ বন্দুকবাজ। অনায়াসে তাঁরা 'বুলস আই' বা ষাঁড়ের চোখে গুলি ছুঁড়তে পারেন। এই নতুন আবিষ্কার তাঁদের হাতে এনে দেয় নতুন জীবনের স্বাদ। তাঁরা নানা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করতে থাকেন। এবং পর পর জিততে থাকেন স্বর্ণ-রৌপ্য পদক। কিন্তু এর পুরোটাই চলতে থাকে লুকিয়ে লুকিয়ে। বাড়ির পুরুষরা টুঁ-টি টের পায় না। নিজেদের সঙ্গে সঙ্গে চন্দ্র এবং প্রকাশী নিজেদের বাড়ির মেয়েদেরও অনুপ্রেরণা জাগান এই শার্প-শুটার হওয়ার জন্য। কিন্তু একটা সময় আসে যখন বাড়ির পুরুষদের সামনে সত্য উদঘাটন করতেই হয়। কী হয় তখন? তার জন্য ছবিটা দেখতে হবে। চন্দ্র এবং প্রকাশী তোমরের জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই ছবি। এই দুই চরিত্রে যথাক্রমে ভূমি এবং তাপসী অসাধারণ। তাঁদের দেশওয়ালি কথাবার্তা, ৬০ বছরের বৃদ্ধার শরীরী ভাষা অনবদ্য। যদিও মেক-আপ আরও ভালো করা যেত। কিন্তু সেটা তাঁরা তাঁদের অভিনয় দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের শ্বশুর পঞ্চায়েত প্রধানের ভূমিকায় পরিচালক সাংঘাতিক গোঁড়া প্রকাশ ঝা, এক কথায়, অপূর্ব। ছবির সুনিপুণভাবে তৈরি নানা দৃশ্য মন ভরিয়ে দেয়। বলতেই হয় সুন্দর চিত্রগ্রহণের কথাও। এ ছবি নারীশক্তি উদযাপনের ছবি। অনুপ্রেরণা জাগানোর ছবি। সেই জায়গা থেকে ছবিটি ১০০ শতাংশ সফল।
from Movie Review in Bengali, চলচ্চিত্র পরিদর্শন, Bangla Movie Review, Bollywood Film Rating https://ift.tt/31Nmbxd
সাঁন্ড কি আঁখ
Reviewed by SGMoviesHD
on
October 26, 2019
Rating:

No comments: